
এফএনএস : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহজাহান মিয়া গতকাল মঙ্গলবার তার সচিবালয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিং-এ বলেন, 'ইসলাম একটি মানবতাবাদী ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের কোন স্থান নেই। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্যতম অপরাধ। তিনি বলেন, ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যাতে ইসলাম বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে এবং ইসলামকে কলঙ্কিত করতে না পারে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমি দেশের আলেম-উলামা, মসজিদের খতিব, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মপ্রাণ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।' প্রতিমন্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে জামায়াত-শিবির চক্র দেশজুড়ে হত্যা, সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে ইসলামের সমুন্নত ভাব-মর্যাদা বিনষ্টের জন্যই তারা এ ধরনের জঘন্য ও হীন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তাদের দ্বারা দেশের প্রচুর জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে এবং তাদের হাতে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। তাদের সন্ত্রাসী আক্রমণে যারা আহত-নিহত হয়েছেণ তাদের অধিকাংশই মুসলিম। তাদের হাত থেকে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও রক্ষা পায়নি। তারা পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়িতে আগুন দিচ্ছে এবং তাদের পবিত্র উপাসনালয়ও ধ্বংস করছে। এ সব কার্যক্রমই তারা করছে ইসলামের দোহাই দিয়ে। ধর্মপ্রতিন্ত্রী আরও বলেন, জামায়াত-শিবির চক্র এখন মসজিদেও আঘাত হানছে। মসজিদ মুসল মানদের পবিত্র ইবাদতখানা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মুসলমানগণ এখানে একত্রিত হয় এবং প্রতি সপ্তাহে জুমআর নামাজে সংশি¬ষ্ট এলাকার মুসলিমগণ দিক-নির্দেশনামূলক খুতবা শুনে থাকে। মসজিদ আল¬াহর ঘর। এর পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। অথচ তারা গত ২২ ফেব্রয়ারি বায়তুল মুকাররম মসজিদে জায়নামাজ পুড়িয়ে ফেলেছে। মসজিদের ইমাম সাহেবের প্রতি উদ্ধত আচরণ করেছে। এটি কোন মুসলমানের কাজ হতে পারে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের সংবাদপত্রে আপনারা দেখেছেন, জামায়াত-শিবির চক্র চট্টগ্রামে ১০ জন শীর্ষস্থানীয় আলেমকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করেছিল। এই হত্যাকারীদের ১০ জন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে এবং তারা আলেম হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। যেখানে মানুষহত্যার বিষয়ে ইসলামের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেখানে আলেম হত্যা করা কতটা জঘন্যতম অপরাধ তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। তাই জামায়াত-শিবির যা করছে তাকে ইসলামী কর্মকাণ্ড বলে মেনে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি তারা সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলেও মিথ্যা গুজব রটিয়ে সরলমনা ধর্মপ্রাণ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে নাশকতা চালাতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মানুষকে ধোঁকা দেয়া সম্পূর্ণভাবে অনৈসলামিক কাজ। তারা দেশের সম্মানিত আলেম-ওলামাগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আমি আবারও বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন, আমরা ইসলামের সমুন্নত ভাবমর্যাদা রক্ষার স্বার্থে দেশ ও জাতির স্বার্থে যার যার অবস্থান থেকে হীন চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, জামায়াত-শিবির চক্রের হাতে আক্রান্ত সংখ্যালঘুদের সহায়তায় সরকার সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদান করবে। এছাড়া এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। জামায়াত-শিবির চক্রের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের প্রতিবাদে আগামীকাল সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আলেম-ওলামা ও ইমামদের সাথে ধর্মপ্রাণ মুসলি¬দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মো. আফজাল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান, পেশ ইমাম মহিবুল¬াহিল বাকি নদভী, মুফতি মাওলানা এহসানুল হক এবং মুফতি আবদুল¬াহ।