
এফএনএস ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মিশরের একটি আদালত দেশটিতে চলতি বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দিয়েছে। কায়রোর প্রশাসনিক আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসি যে নির্বাচনী আইন ঘোষণা করেছেন সেই আইন সর্বাচ্চ সাংবিধানিক আদালত পর্যালোচিত হতে হবে। নির্বাচন স্থগিতে আদালতের আদেশের পর মুরসি জানিয়েছেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার সম্ভাবনা নেই। চলতি বছরের ফেব্রয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট মুরসি পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য একটি রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। দুইমাসব্যাপী ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচিও তিনি নির্ধারণ করেছিলেন। সেই সূচি অনুযায়ী ২২ এপ্রিল থেকে দেশটিতে সংসদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা ছিল। মুরসি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রধান বিরোধীদলীয় জোট ন্যাশনাল সালভেশন ফ্রন্ট (এনএসএফ) জানিয়েছিল, তারা এই নির্বাচন বয়কট করবে কেননা প্রেসিডেন্টের ইসলামি মিত্রদের পক্ষে যাবে এই নির্বাচনী আইন প্রণীত হয়েছে। তবে তা অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট মুরসি।
এনএসএফ উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো জানিয়েছে, এই নির্বাচন অবাঁধ ও নিরপেক্ষ হবে না। নির্বাচনী আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক ডজনের বেশি অভিযোগ পড়ার পর আদালত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে মিশরের রাজনৈতিক সঙ্কট আরো গভীর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচনকে নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হলো। মিশরের প্রশাসনিক আদালতের প্রধান আবদেল-মেগুইদ আল-মুকানেন জানান, এসব আইন সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা অবশ্যই সাংবিধানিক আদালতে পর্যালোচনা করে দেখা হবে এবং প্রেসিডেন্ট মুরসি যে ডিক্রি জারি করেছেন তা বাতিল করা হচ্ছে।আদালত আরো জানিয়েছে, সুরা কাউন্সিল আইনটি অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট মুরসির কাছে পাঠায়। প্রেসিডেন্ট মুরসির আইনি উপদেষ্টা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।