
এফএনএস ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : অবশেষে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে গত বুধবার রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার গ্রেপ্তারের পর দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাকে ছেড়ে দিতে বাঁধ্য হয় সরকার। তবে ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। শাসনক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে অবৈধভাবে এক বিচারককে আটক করার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মামলায় ১০ ফেব্রয়ারিতে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নাশিদ আদালতে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর আদালত তাকে গ্রেপ্তার করার আদেশ দেয়। নাশিদের মালদ্বীপিয়ান ডেমক্রেটিক পার্ট (এমডিপি) জানিয়েছে, ওই মামলার কার্যক্রম চার সপ্তার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে আসন্ন ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মামলাটি মূলতবি রাখাতে চেয়ে করা নাশিদের আবেদনের ওপর কোনো রুল জারি করেনি আদালত। ওই নির্বাচনে নাশিদ একজন প্রার্থী। ৪৫ বছর বয়সী নাশিদ জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে নির্বাচন থেকে বিরত রাখাই মূল উদ্দেশ্য।
আঞ্চলিক শক্তি ভারতের আহ্বান উপেক্ষা করে মালদ্বীপ মঙ্গলবার নাশিদকে গ্রেপ্তার করে। নির্দেশানুয়ায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান হানিফ। নাশিদকে গ্রেপ্তার না করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ভারত। এর আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা এড়াতে ১৩ ফেব্রয়ারি ভারতীয় দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন নাশিদ। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন এমন একটি সমঝোতার ভিত্তিতে ১০ দিন পর দূতাবাস ছাড়েন তিনি। ম্বালদ্বীপে গত বছর ফেব্রয়ারিতে নাশিদকে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার সমর্থকদের। নাশিদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করেছে তারা। মামলায় নাশিদ দোষী সাব্যস্ত হলে ৭ সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না তিনি। নাশিদ জানান, বিরোধীদের প্রতিবাদ এবং পুলিশ বিদ্রোহের পর বন্দুকের নলের মুখে পদত্যাগে বাঁধ্য হয়েছেন তিনি। তবে গত অগাস্টে ন্যাশনাল কমিশন বলেছে, নাশিদের সরকার পতন কোনো অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হয়নি।