প্রকৌশলী এস এম ফজলে আলী : সাধারণভাবে বলতে গেলে পৃথিবীতে মানুষ মানুষ হিসেবে জন্মগতভাবে যেসব অধিকার লাভ করে তাই মানবাধিকার। আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রথম মানবাধিকারের ধারণা জন্মে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ফ্রান্সে ঘোষিত হয় উপধলথড়-য়মসষ সফ য়ভপ হপসহলপ'ঢ় জমবভয় এবং ১৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে মার্কিন সংবিধানে সংযোজিত হয় ঞভপ ইমলল সফ জমবভয়ঢ়. এরপর থেকেই পাশ্চাত্য দুনিয়ায় মানবাধিকার ধারণাটি বিকশিত হতে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ববাসী এ বিষয়ে আরো সচেতন হয়ে ওঠে। এরই পরিপেক্ষিতে ১৯৪৮ সালে জাতিসঙ্ঘ ৩০টি ধারা সংবলিত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করে। এই ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় বটে, কিন্তু কোনো রাষ্ট্রের ওপর এই সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়নি। কিন্তু আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে ইসলামের বাণীবাহক মানবতার মুক্তিদূত বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা: দুনিয়াবাসীর সামনে প্রথম মানবাধিকারের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মানুষ কতগুলো স্বত:সিদ্ধ অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। দেশ-কাল-বর্ণ ভাষা-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের বেলায় সে অধিকার সমানভাবে প্রযোজ্য। এই অধিকারগুলোকে একত্রে বলা হয় মৌল মানবাধিকার বা ঐৎশথষ জমবভয়ঢ়. এই অধিকার হরণ করা বা দলন করার অধিকার দুনিয়ার কোনো শক্তিরই নেই। প্রথম বাঁচার অধিকার, তারপর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার। অত:পর যখন প্রশাসনের আওতায় পড়ে তখন তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ঈমংমল থষন চসলময়মধথল জমবভয়, ঊধসষসশমধথল থষন ঝসধমথল জমবভয়. দুনিয়াবাসীর নিকট সর্বপ্রথম মানবাধিকারের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ঘোষণা করেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা:। ইসলাম ধর্ম প্রচারের প্রাথমিক অবস্থায় নবদীক্ষিত মুসলিমদের জীবনে যে অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন নেমে এসেছিল, এতে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছিল। আরবের কাফের-মুশরিকদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ সা: মদিনায় হিজরত করেন। এত অত্যাচার সত্ত্বেও মক্কা বিজয়ের পর হজরত সা: সবাইকে ক্ষমা করেন। ইসলামে মান-ইজ্জত বা সম্মান মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। পরস্পরের ইজ্জত ও সম্ভ্রমের ওপর হস্তক্ষেপ করার মতো উপায় ও পন্থা নিষিদ্ধ করে কুরআন মাজিদে আল্লাহ পাক ঘোষণা দেন 'মজলুম ছাড়া আল্লাহ কারো ফরিয়াদ পছন্দ করেন না।'
ইসলামে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তিরই তার ব্যক্তিগত জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা সংরক্ষণের নিশ্চিত গ্যারান্টি রয়েছে। ইসলাম চিন্তার স্বাধীনতার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ইসলাম এ ব্যপারে যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তা সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটা স্পষ্ট ঘোষণা করে যে ইসলাম গোটা মানবতার জন্য অভিন্ন কল্যাণধর্মী জীবনদর্শনকে আল্লাহ সুসংহত করে আল কুরআনে তা প্রকাশ করেছেন। এর সাথে মানুষের ভালো-মন্দের চিন্তার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত ভালো-মন্দ কাজের জন্য তাঁর নিকট তাকেই জবাবদিহি করতে হবে। ইসলাম চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সাথে সাথে স্বাধীন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাও দিয়েছে। মানবাধিকারের ভারসাম্যমূলক অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্দের বিপক্ষে এবং ভালোর সপক্ষে ব্যক্তির বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে ইসলাম বিশ্বাস করে। তাই কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, 'আল্লাহ গিবত পছন্দ করেন না, কিন্তু জুলুমের প্রতিবাদ পছন্দ করেন।' ইসলাম ধর্মের ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপ কিংবা জোর প্রয়োগের অধিকার দেয় না। এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে বলা হচ্ছে, 'দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো জোর প্রয়োগ নেই। গোমরাহি থেকে ইসলামকে তো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে।' শুধু তাই নয়, ইসলামে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মানুভূতিতেও আঘাত করার অনুমতি নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা তাদের মন্দ বলো না, যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদেরও আরাধনা করে।' কারণ তখন তারা আল্লাহ ও তার রাসূল সা: সম্বন্ধে বিরূপ মন্তব্য করতে পারে।
ন্যায়বিচার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। একমাত্র ইসলামই ন্যায়বিচারের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে।' মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ সা: একের অপরাধে অপরের ওপর শাস্তিও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, 'অপরাধের জন্য একমাত্র অপরাধীই দায়ী হবে। পিতার অপরাধে পুত্র বা পুত্রের অপরাধে পিতা দায়ী হবে না।' ইসলামই সর্বপ্রথম নারী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। জাহেলিয়াতের যুগে যখন কন্যাশিশুকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো, তখন মহানবী সা: ঘোষণা করেন, 'তোমরা কন্যাসন্তানদের হত্যা করো না।' ইসলাম নারীকে পুরুষের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার দান করেছে। কুরআন ঘোষণা করেছে, 'পিতামাতা ও আΝীয়স্বজনদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদের অংশ আছে; অল্প হোক কিংবা বেশি এ অংশ নির্ধারিত।' ইসলামে নারীর মর্যাদা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। নারীর আΝিক উন্নতির বিষয় আল কুরআনে বলা হয়েছে, 'নারী হোক, পুরুষ হোক তিনি কারো কোনো আমল বিনষ্ট করেন না। তোমরা একে অন্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।' (আল এমরান : ১৯৫)।
আধ্যাΝিক উন্নতিতে আল্লাহ নারী পুরুষের কোনো বৈষম্য করেননি। আল কুরআন ঘোষণা করেছে, 'আল্লাহর প্রতি আΝসমর্পণকারী পুরুষ ও নারী; সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও নারী; সৎ পুরুষ ও নারী; আল্লাহকে স্মরণকারী পুরুষ ও নারী; ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী; বিনয়ী পুরুষ ও নারী; দানশীল পুরুষ ও নারী; স্বীয় লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী পুরুষ ও নারী এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণকারী পুরুষ ও নারীগণ এসব লোকের জন্য আল্লাহ পাক ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান প্রস্তত করে রেখেছেন।' (সূরা আহজাব : ৩৪)। তাই ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে পুরুষ-নারীর সমান অধিকার। নারীদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতেন রাসূল সা:। একবার তাঁর দুধমা তাঁর কাছে এলে তিনি তাঁর গায়ের চাদর বিছিয়ে মাতাকে বসতে দেন। এ রকম নানা বিষয়ে শত শত উদাহরণ হাদিসে পাওয়া যায়। ইসলামে নারীকে তালাকের অধিকার দিয়েছে যা অন্য ধর্মে নেই। স্ত্রী হিসেবে নারী পুরুষের চেয়ে সমাজে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও জীবনে আরেক পর্যায় তাকে পুরুষের তুলনায় বেশি মর্যাদা দেয়া হয়েছে। মা হিসেবে নারীকে তিন গুণ বেশি মর্যাদা দেয়া হয়েছে পিতা থেকে। মেয়েরা পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলের অর্ধেক পেলেও তারা অন্যান্য দিক দিয়ে মুক্ত। সংসারের যত খরচ তা পুরুষের বহন করতে হয়। নারীর আয়ের এক পয়সাও স্বামী দাবি করতে পারেন না। তার ভরণপোষণসহ চিকিৎসা ইত্যাদি বিয়ের আগে পিতা বহন করেন। আর বিয়ের পর সব দায়িত্ব স্বামীর। তার ব্যবসায়-বাণিজ্যে যা কিছুই আয় হোক তাতে স্বামীর কোনো অধিকার নেই। ছেলেমেয়ের লেখাপড়াসহ সব খরচ পিতাকে বহন করতে হয়। এমনকি স্বামীকে বিয়ের সময় স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ করে দাম্পত্যজীবন শুরু করতে হয়। স্বামী মারা গেলে তার সম্পত্তির অংশীদার হন স্ত্রীও। ভাই বা বোন নি:সন্তান মারা গেলেও তার সম্পত্তিতেও নারীর অংশ আছে। তাই একজন নারী নানা দিক থেকেই সম্পত্তি পেয়ে থাকে অথচ সংসারের কোনো দায়িত্ব তার ওপর বর্তায় না।
ইসলামের দৃষ্টিতে যেটি ভালো কাজ তা নরনারী উভয়ের জন্য ভালো; যা মন্দ তাও উভয়ের জন্য মন্দ। কুরআন-সুন্নাহে নারী-পুরুষ উভয়কে ভালো কাজের জন্য যেমন একই রকম পুরস্কার ঘোষণা দেয়া হয়েছে তেমনি পাপকর্মের শাস্তিতেও কোনো বৈষম্য নেই; যেমন আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন 'চোর পুরুষ হোক আর নারী হোক তার হাত কেটে দাও।' (মায়িদা : ৩৮)। আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী উভয়কে এক শ' কশাঘাত করবে। (আন-নূর : ২)। বিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করলে তার শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। বিবাহিত নারীর শাস্তিও তাই। কেউ যদি কোনো সচ্চরিত্রা নারীর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে তবে তাকে কঠোর শাস্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ ঘোষণা করেন 'যারা কোনো সতী-সাধ্বী নারীর ওপর অপবাদ আরোপ করে, অত:পর স্বপক্ষে চারজন সাক্ষী উপস্থিত না করে, তবে তাদের আশিটি দোররা মারবে। আর কখনো তাদেরকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করবে না।'(আন-নূর : ৪)। সভ্যতার ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো সভ্যতা নারীকে দেয়নি তার উপযুক্ত প্রাপ্য; তাকে দেয়া হয়নি জান, মাল কিংবা ইজ্জতের নিরাপত্তা। তাকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। দেয়া হয়নি সম্পদের মালিক হওয়ার অধিকার। ন্যায়বিচার লাভের কোনো সুযোগ তাকে দেয়া হয়নি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা তার জন্য ছিল অকল্পনীয়। অনেক সভ্যতায় নারীর আΝা আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ইসলাম নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করেছে তার জন্মের সাথে সাথেই। কন্যাসন্তানের জন্মকে সৌভাগ্যসূচক বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কন্যার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পিতামাতাকে নিষেধ করা হয়েছে। স্ত্রী সম্পর্কে বলা হয়েছে স্বামীর ওপরে তার ততটা অধিকার রয়েছে, যতটা রয়েছে তার ওপরে স্বামীর অধিকার। তা ছাড়া স্ত্রীর প্রতি আচরণকে স্বামীর চারিত্রিক বৈশিষ্টের মানদণ্ড বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যে ভালো ব্যবহার করে সে উত্তম, আর যে খারাপ আচরণ করে সে অধম। মাতা সম্পর্কে বলা হয়েছে তার পদতলেই সন্তানের বেহেশত। সন্তানের সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার মাতাকে দেয়া হয়েছে পিতার তুলনায় তিন গুণ।
শুধু কায়িক শ্রমই নয়, শ্রমিকের মজুরি আদায়ে মানবতার নবী হজরত মুহাম্মদ সা: কঠোর আদেশ প্রদান করেছেন। বলা হয়েছে, 'তোমরা শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করে দাও।' রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক নিরন্ন, বাস্তুহারা, বঞ্চিতদের অধিকার ইসলামী মানবাধিকারে সংরক্ষিত। ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হলো জাকাত। এ জাকাত ব্যবহারের মাধ্যমে ধনীদের সম্পদের ওপর দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করে কুরআনে এরশাদ হচ্ছে 'ধনীদের সম্পদে রয়েছে বঞ্চিতদের অধিকার।' শুধু ঘোষণাই নয়, সরকার কর্তৃক জাকাত আদায় করে প্রাপকদের নিকট যথাযথ পৌঁছে দেয়ার বিধানও ইসলামী রাষ্ট্রে রয়েছে। শুধু জাকাতই নয়, ধনী ব্যক্তিদের গরিবদের সাহায্য করার জন্য ইসলামের নবী তাগিদ দিয়েছেন। ফলে একসময় মুসলিম জাহানে জাকাত নেয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন 'কারো কোনো প্রতিবেশী অভুক্ত থাকলে এবং সে পরিবারপরিজন নিয়ে পেটপুরে খেতে থাকলে তার সারা জীবনের ভালো কাজ আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না।' অভাবীদের জন্য এত বড় কঠোর বাক্য অন্য কোনো নবী তাঁর উম্মতের জন্য উচ্চারণ করেননি। হজরত মুহাম্মদ সা: দাস প্রথার মূলোৎপাটনের জন্য মৃত্যুসজ্জায় এরশাদ করেছেন, 'সাবধান! সালাত ও দাসদাসী। তিনি বলেন, ক্রীতদাসরা তোমাদের ভাই। তোমরা যা আহার করবে, পরিধান করবে, তাদেরও তা আহার করাবে ও পরিধান করাবে।'
উপরিউক্ত অধিকারই নয়, বরং মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মানুষের সব ধরনের অধিকার ইসলাম নিশ্চিত করেছে। সন্তানের ওপর পিতামাতার অধিকার; পিতামাতার ওপর সন্তানের অধিকার; শিক্ষকের ওপর ছাত্রের অধিকার; ছাত্রের ওপর শিক্ষকের অধিকার; রাজার ওপর প্রজার অধিকার; রাষ্ট্রীয় কাজে জনসাধারণের অধিকার ইসলামই দিয়েছে। আল কুরআনে বলা হয়েছে, 'তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ সমাধান করবে।' উপরিউক্ত আলোচনায় প্রমাণিত হয়, হজরত মুহাম্মদ সা:ই প্রথম মানুষকে বাস্তব অর্থে মানবাধিকার দিয়ে গেছেন। তাঁর বিদায় হজের ভাষণ মানবাধিকারের মূর্ত প্রতীক। তা আজো মানবাধিকারের গঅএঘঅ ঈঅজঞঅ হয়ে আছে। বর্তমান বিশ্বে মানুষে মানুষে যে হানাহানি, রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে যুদ্ধবিগ্রহ তার মূলে কাজ করছে মানুষের নৈতিকতার অভাব। মানুষ যে আশরাফুল মাখলুকাত সে কথা তারা ভুলে বসেছে। এই ভ্রান্ত মানবসমাজে মুক্তির পথ দেখাতে পারে একমাত্র ইসলাম ও রাসূল সা:-এর জীবনাদর্শ। মানবসমাজ যত তাড়াতাড়ি এই সঠিক পথে ফিরে আসবে মানবজীবনে তথা সমাজেও তত দ্রুতই শান্তি ফিরে আসবে। (সংকলিত)