তাজা খবর : 
 
 
কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ মুখ থুবড়ে পড়েছে,ঠিকাদারের পলায়ন
এফএনএস (কমল কুমার হালদার; মিরপুর, কুষ্টিয়া) : রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি আর হরিপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী গড়াই নদীর উপর প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মান কাজ শুরু করা হলেও অর্থাভাবে সেতু নির্মান ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। ফলে সেতু নির্মান কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হরিপুর ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এলজিইডি কর্মকর্তারা বলছেন নতুন করে টেন্ডার দিয়ে  পুণরায় সেতু নির্মান করা হবে। কুষ্টিয়া শহর সংলগ্ন সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হাটস হরিপুর। শহরের পাশ দিয়ে গড়াই নদী প্রবাহিত হওয়ায় কুষ্টিয়ার সাথে বিশাল এই হরিপুর ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। একটি সেতুর অভাবে এখানকার মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে নৌকায় করে কুষ্টিয়া শহরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। এলজিইডি কুষ্টিয়া গড়াই নদীর উপর সেতু নির্মানের কাজ শুরু করলেও অর্থাভাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠিান নির্মান কাজ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। এতে করে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমনকি চাকুরীজীবীদেরকেও নদী পারাপারে বিরম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে। সরকারের প্রতিশ্রুতির পরও সেতু নির্মান বাধাগ্রস্থ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। এদিকে গড়াই নদী পারের লোকজন অভিযোগ করে বলেছেন, নাটকীয় কায়দায় দলীয় সমর্থন আদায় করার লক্ষ্যে সেতু নির্মান কাজের উদ্বোধন করা হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ না করেই পালিয়ে গেছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন গড়াই নদীর ব্রীজ নির্মান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে হরিপুর ইউনিয়নবাসী গড়াই নদীর উপর কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মানের দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে আসলে বিগত ৪ দলীয় ঐক্যজোট সরকার গড়াই নদীর উপর সেতু তৈরীর কাজ হাতে নেয়। সে সময় কাজের ভিত্তিপ্রস্তরও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারনে বিএনপি সরকার কাজ শুরু করতে পারেনি। এবার বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই গড়াই নদীর উপর ব্রীজ নির্মান করা হবে। এদিকে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী জানান, বর্তমান মহাজোট তথা আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সেতু নির্মানের পুনরায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই বছরই গড়াই নদীর উপর সেতু নির্মান করার উদ্দেশ্যে মাটি পরীক্ষাসহ টেন্ডার আহবান করা হয়। প্রায়  সাড়ে ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০৪.৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মান কাজটি দায়িত্ব পান মেসার্স আনোয়ার হোসেন নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সে সময় কথা ছিল এই সেতুর উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে যেয়ে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা আগামী নির্বাচনে হরিপুরবাসীর নিকট ভোট চাইবে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ না করে পালিয়ে যাওয়ায় হতাশ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। তবে বর্তমান সরকারের শাসনামলেই কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মান কাজ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন এই নেতা। এলজিইডি কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কবিরের সাথে সেতু নির্মান নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, দায়িত্ব প্রাপ্ত সেতু নির্মান প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যাওয়ায় তাকে অযোগ্য ঘোষনা করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নিকট ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর নির্মান কাজ শুরু করা হবে। কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু দ্রুত নির্মান করে ৫০ হাজার মানুষের প্রানের দাবী পুরনসহ যাতায়াতে দুঃখ দূর্দশা লাঘব করবে সরকার এমনটিই আশা করছে হরিপুরবাসী। তারা এখন শুধু আশ্বাস নয় দ্রুত বাস্তবায়ন চায়।

কুষ্টিয়ায় উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের ষ্টলে ২০০ প্রজাতির ফল-ফসলের জাত
এফএনএস (কমল কুমার হালদার; মিরপুর, কুষ্টিয়া) : কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে শুরু হয়েছে কৃষি প্রযুক্তি মেলা। যেখান থেকে কৃষক এক সাথে সব ধরণের কৃষির প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। পুষ্টি সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গঠণের প্রত্যয় নিয়ে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরের কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ষ্টল করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন'র উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র। উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এস এম ইকরামূল হক বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে কৃষি এখন সর্বাধুনিক বিজ্ঞান। কৃষিতে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে একজন কৃষককে প্রতিটি কৃষি দফতরের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। কিন্তু কৃষি প্রযুক্তি মেলায় কৃষির সাথে সংশি¬ষ্ট দফতর প্রযুক্তির ঝুড়ি নিয়ে বসেছে। এখান থেকে একজন কৃষক অতি সহজে তার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে। তিনি বলেন, পুষ্টি সমৃদ্ধ জাতি গঠন এবং উন্নত জাতের ফল-ফসলের জাত উপহার দেয়াই বিএডিসির উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবছর কৃষি প্রযুক্তি মেলায় প্রায় ২০০ প্রজাতির ফল-ফসলের জাত প্রদর্শন করছে উদ্যান বিভাগ। তিনি বলেন এবছর কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ৩০ প্রজাতির আমের জাত প্রদর্শন করা হচ্ছে। যেসব জাত ব্রি উদ্ভাবিত। তবে উদ্যান বিভাগ প্রতিটি জাতকে স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে মানানসই করে তুলেছে। এবছর প্রদর্শীত আমের জাতের মধ্যে উলে¬খযোগ্য থাইল্যান্ডের ডোয়াক এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত বলে জানান ইকরামূল হক। এছাড়া, বাংলাদেশী হাড়িভাঙ্গা, ভারতের জাত পুনে, তোষা, ইংল্যান্ডের মেট্রসতোতা, এবং দেশী বারি-৪ উলে¬খযোগ্য। বারমাসিসহ কাঠালের ৫টি জাত রয়েছে উদ্যানে। জাম-কোরিয়ান এবং দেশী উন্নত জাত, আমড়া-বারমাসি, হাইব্রিড এবং দেশী। জামরুল-গ্রীন ড্রপ, আপেল জামরুল, লাল জামরুল এবং দেশী উচ্চ ফলনশীল জাত উলে¬খযোগ্য। সফেদা এবং গফেদা, আঙ্গুর-সিলেটি এবং নাগপুরি। উন্নত জাতের মালটা। বাতাবি লেবু-বারমাসী এবং দেশী উন্নত জাত। লিচু-চায়না, বেদানা, বোম্বাই এবং দেশী উন্নত জাত। কুল-আপেল, বাউ, নারকেল এবং দেশী। পেপে-থাই এবং দেশী উন্নত জাত। নারকেল এবং লেবুর দেশী উন্নত জাত। পেয়ারা-কাজি, কাঞ্চন এবং দেশী উন্নত জাত। এছাড়া মসলা জাতীয় গাছের মধ্যে রয়েছে তেজপাতা, এলাচ ও দারুচিনি। কেবল ফল নয় প্রদর্শিত হচ্ছে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত আলু- ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, মিনি টিউবার জাত। টমেটো-বারি-৫, রতন এবং রুমা। বেগুন-বারি-৫, কাশেমপুরি ও ইসলামপুরি। কেবল ফল-ফসল নয় ১০ প্রজাতির বনজ ও শতাধিক প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ চারাও রয়েছে উদ্যানের ষ্টলে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ প্রকার ফল-ফসলের চারা ও বীজ প্রদর্শন করছে উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র। যে কোন কৃষক উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের ষ্টল থেকে জানতে পারবেন এসব জাতের জীবনকাল, ফল-ফসলের বৈশিষ্ট্য, চাষ পদ্ধতি, সার-সেচসহ রোগ-বালাই প্রতিরোধের সার্বিক পরামর্শ।


  আপলোড তারিখ : 2013-03-09

Share on Facebook    
 
 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত