
এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা) : যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৩টি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি রোববার (১০ মার্চ) সকালে জাইকার সঙ্গে করা হবে। তিনি শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দির শহীদনগরে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প-১ এর বিটুমিনাস (এসফল্ট) কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী তার নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে শহীদনগরে এ কাজের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪ লেনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এ মহাসড়কের কাজ এখন দৃশ্যমান হয়েছে। ৪ লেনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য আগামী জুন মাস পর্যন্ত অর্থের কোনো সমস্যা নেই। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২য় কাচঁপুর, ২য় মেঘনা ও ২য় মেঘনা-গোমতী এ ৩টি সেতুর নির্মাণ কাজ এ সরকারের আমলেই শুরু হবে। এ ব্যাপারে জাইকার সঙ্গে রোববার (১০ মার্চ) সকালে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এতে জাইকা ৭ হাজার কোটি ও বাংলাদেশ সরকার ২ হাজার কোটি অর্থের যোগান দেবে। মন্ত্রী আরও বলেন, এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর শেষ পর্যায়ের স্থায়ী মেরামতের কাজ শুরু হবে। তা ২১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। আশা করি আগামী ৯/১০ বছরের জন্য সেতু দুটি আর সংস্কারের প্রয়োজন হবেনা। তিনি বলেন-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪ লেনের প্রকল্প কাজের বাস্তবায়নে কোন বাধা নেই এ প্রকল্পে যথেষণ্ট ফান্ড রয়েছে। আর সরকারেরও আন্তরিকা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৪ কিলোমিটার অংশে কুমিল্লার দাউদকান্দির শহীনগরে প্রকল্পের ২১ কিলোমিটার এলাকায় বিটুমিন কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪ লেনের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, সহকারী প্রকল্প পরিচালক শামছুদ্দিন নান্নু, আফতাব হোসেন খান, কুমিল্লা সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকেশলী আবদুর রহিমসহ ৪ লেন ও সড়ক জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
উল্লেখ্য-১৫ মার্চ সকাল আটটা থেকে ২১ মার্চ সকাল আটটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অবস্থিত মেঘনা-গোমতী সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সংস্কারকাজের জন্য ওই কয়েক দিন সেতু দুটি বন্ধ থাকবে। বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কুমিল্লার উপসহকারী প্রকৌশলী মাজহারুল হক বলেন-, শেষ পর্যায়ের স্থায়ী সংস্কার কাজের জন্য সেতু দুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, সংস্কারকাজের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
কুমিল্লায় চকবাজারে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি
এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা) : কুমিল্লা নগরীর চকবাজারে আগুন লেগে ১৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, গভীররাতে বাজারের একটি দোকানে বৈদ্যুতিক শর্ট সাকির্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ও ইপিজেডের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে মালপত্রসহ বাজারের ১৮টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তিনি আরো জানান, আগুনে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু শাহিনসহ চকবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাল্যবিবাহ ও সামাজিক সমস্যা নিরসনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে- সাংসদ নজরুল
এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা) : বাল্যবিবাহ ও সামাজিক সমস্যা নিরসনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই সকলকে তাদের সন্তানকে যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে, তাহলেই এদেশের বিভিন্ন সমস্যা দূর হবে- গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনেশ্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪০-তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে কুমিল্লা-৮ আসনের সাংসদ নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এ কথা বলেন।
এড. মোস্তাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, ধনেশ্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এড. সৈয়দ মতিউল ইসলাম(মন্টু), বিশিষ্ট শিল্পপতি তাজুল ইসলাম খান খোকন, বিশিষ্ট শিল্পপতি সাদেকুল ইসলাম তালুকদার, সমাজসেবক সৈয়দ মোহাম্মদ ফেরদৌস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবুল খায়ের সরকার। বিদ্যালয়ের ৪০-তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লাকসামে সংখ্যালঘুর বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা
এফএনএস (মোঃ হাবিবুর রহমান খান; কুমিল্লা) : আমরা তো কোন দোষ করিনি। আমাদের ওপর কেন এই অত্যাচার। হিন্দু বলে কী আমরা মানুষ নই। ওরা আমার সব পুড়ে দিয়েছে। আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমি এখন সন্তানদের নিয়ে করবো। এই ভাবেই বিলাপ করে বলছিলেন, লাকসামের উত্তরদা গ্রামের প্রবাসী রতন চন্দ্র দাসের স্ত্রী মিলন রাণী দাস। শুক্রবার রাতে তাঁর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। তিনি জানান, আগুনের লেলিহান শিখায় নিমিষেই তাঁর ঘরে থাকা নগদ একলাখ ৭০ হাজার টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, ধান-চাউল, আসবাবপত্রসহ সব কিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। কোন রকম দুই সন্তান-নিলয় চন্দ্র দাস (১৩) ও হৃদয় চন্দ্র দাসকে (১০) নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওইদিন গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রবাসী রতন চন্দ্র দাসের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। লাকসাম দমকল বাহিনীকে খবর দিলেও তারা প্রায় একঘন্টা বিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে ততক্ষনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। রতন চন্দ্র দাসের ছেলে নিলয় চন্দ্র দাস জানায়, তাঁর মা ছোট ভাইকে নিয়ে একটি কক্ষে এবং সে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ একটা শব্দ শোনে সে জেগে উঠে দেখে, ঘরের চালায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এ সময় সে চিৎকার দিলে তার মা ছোট ভাইকে নিয়ে কোন রকম ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
সে জানায়, এ সময় কয়েকজন লোক দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার শব্দ শোনা গেছে। তবে অন্ধকারে কাউকে দেখা যায়নি। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিমিষেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কুমিল¬া জজকোর্টের আইনজিবি নিতাই চন্দ্র দাস জানান, তাঁর ছোট ভাই রতন চন্দ্র দাস প্রবাসে থাকেন। স্ত্রী মিলন রাণী দাস দুই সন্তানকে নিয়ে ওই ঘরে (সেমি পাকা) থাকেন। অন্য ভাইদের একটি দালানঘর নির্মানাধীন হওয়ায় ওইসব ঘরের মালামালও এই ঘরে রাখেন। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। ওই গ্রামের বাসিন্দা উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ্য শিক্ষক মো. শাহদাত হোসেন মজুমদার বলেন, একটি অশুভচক্র কর্তৃক পরিকল্পিত ভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখলীসহ দেশের অন্যান্যস্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে যে, নাশকতা চালানো হচ্ছে। এটি চলমান ওই নাশকতারই একটি অংশ বলে তিনি দাবি করেন।
শনিবার সকালে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহগীর আলম এবং লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের ও বিকেলে কুমিল¬া জেলা প্রশাসক রেজাউল আহসান এবং পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেন। ইউএনও ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লাকসাম থানার ওসিকে অনুরোধ জানান। ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, তাঁর ধারণা এটি নাশকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে দেখা হচ্ছে।