
এফএনএস : খুলনার কয়রা উপজেলায় আসামি ধরতে গিয়ে মফিজুল (৪৮) নামে কয়রা থানা পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বেদকাশির গোয়ালখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে। এদিকে, হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য সেখানে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দিনগত গভীর রাতে কয়রা থানা পুলিশের একটি দল ৫ মার্চ হরতালে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি ধরতে বোয়ালখালী এলাকায় যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এ সময় সংঘর্ষে কনস্টেবল মফিজুল নিহত হয়।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. গোলাম রউফ খান জানান, ৫ মার্চ হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি ধরতে পুলিশের একটি দল ওই উপজেলার বোয়ালখালী এলাকায় যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মামলার আসামি জামায়াত-শিবিরের লোকজন পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ আΝরক্ষার্থে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। জামায়াত-শিবির কর্মীরা পাল্টা গুলি ছুড়লে ওই কনস্টেবল বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারা যান। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুর রহমান জানান, ভোর রাতে আসামি ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে মফিজুল মারা যান। নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানা নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে, হামলাকারীদের গ্রেফতারের জন্য কয়রা উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল ৫টা থেকে এ অভিযানে পুলিশের বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। এ ব্যাপারে খুলনা পুলিশ সুপার গোলাম রউফ জানান, পুলিশকে গুলি করে যারা হত্যা করেছে তাদের পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ বেদকাশি ও আমাদীতে যারা তান্ডব চালিয়েছে তাদের ধরতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি যারা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতারের জন্য শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় তারা মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা-গুলি চালায়। তাদের গুলিতে কনস্টেবল মুফিজুল নিহত হন।