
এফএনএস (মোঃ বাবুল আকতার; সাপাহার, নওগাঁ) : নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত এক কালের খরস্রোতা পুর্ণভবা নদী এখন পানি শূন্য মরা খালে পরিণত হয়েছে।
ভারতের দক্ষিন দিনাজপুর ও মালদাহ জেলার মধ্যবর্তী স্থান থেকে উৎপত্তি হয়ে সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী, কলমুডাঙ্গা, পোরশার নিতপুর ও গোমস্তাপুর হয়ে চাপাই নবাব গঞ্জ জেলার মহানন্দা নদীতে মিলিত হয়েছে এ নদী । প্রবীন লোকজনের ভাষ্য জানা যায়, এক সময় বার মাস প্রবাহমান পূর্ণভবা নদী। তৎকালিন বৃটিশ ও পাকিস্তান শাসন আমলে এলাকার রাস্তা ঘাট গুলির অবস্থা খুব খারাপ থাকায় পূর্ণভা নদী টি যোগাযোগের এক মাত্র পথ হিসেবে ব্যাবহার করা হতো। নদী জলে পরিপূর্ণ থাকায় নদীর বুকে বড় বড় নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার চলতো। নদী পথে এ জনপদের মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য পরিবহন করে চাপাই নবাব গঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহন পুর হাটে বেচা কেনা করছিল। আবার এ জনপদের মানুষ রহনপুরে গিয়ে ট্রেন যোগে রাজশাহী, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাওয়া আসা করত। সে সময় সীমান্তবর্তী গ্রাম পাতাড়ীর কাবলীর ঘাটে নৌকা ভিড়ত। এ ছাড়া ওই নদীর পানি সেচ কাজে ব্যাবহার করে এলাকায় শত শত একর জমিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হত। বর্তমানে দেশের শহর বন্দর গ্রাম গঞ্জ সহ প্রায় সকল রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন হওয়ার ফলে নদীর প্রতি আর তেমন গুরুত্ব নাই। যন্ত্র চালিত যানবাহনে করে অতি অল্প সময়ে মানুষ পৌঁছে যাচ্ছে নিজ নিজ গন্তব্যে। বর্তমানে এই পুর্নভবা নদী তার নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে । বর্ষা কালে বৃষ্টির পানির তোড় ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীটি তার পূর্ন যৌবন ফিরে পেলেও খরা মৌসুম আসতে না আসতে নদীটি মরা খালে পরিণত হয় । চৈত্র মাসে নদীর বুকে ধু-ধু বালির চর দেখে মনেই হবেনা এটি একটি প্রবাহমান নদী। সীমান্ত ঘেঁষা এই পূর্ণভা নদীটির সংস্কার করা হলে নদীটি ফিরিয়ে পেত তার হারনো যৌবন । নদীর পানি ব্যাবহার করে খরা মৌসমে ফসল উৎপাদনের মধ্যেমে এলাকার হাজার হাজার মানুষের উন্নয়ন সম্ভব হবে।