তাজা খবর : 
 
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্ণেডোর ছোবল ॥ কয়েকটি গ্রাম লন্ডভন্ড ॥ নিহত ৯ ॥ আহত ৫শতাধিক ॥ ৫শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত
এফএনএস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ টর্নেডোতে ৩ মহিলাসহ ৯ জন নিহত ও কমপক্ষে ৫শতাধিক আহত হয়েছে। এসময় গ্রামের কয়েক শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর, বোরো ফসলী জমির ধান ব্যাপক নষ্ট হয়। টনের্ডোর ছোবলে জেলা কারাগারের পশ্চিম পার্শ্বের দেয়াল ধ্বসে পড়ে। টর্নেডোর পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ও কুমিল্ল¬া-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিভিন্ন স্থানে বৃহৎ আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর টর্নেডোর তান্ডব শুরু হয়। টর্নেডোর ছোবলে সদর উপজেলার রামরাইল, মাছিহাতা, সুলতানপুর ও বাসুদেব ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামে প্রায় ৫ শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়। টনের্ডোর সময় কুমিল্ল¬া-সিলেট মহাসড়কের পার্শ্বে যানবাহনের উপর গাছ উপড়ে পড়লে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এছাড়া সিএনজি চালিত অটোরিকসাসহ বিপুল সংখ্যক গাড়ির উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ে। এতে বাসযাত্রীরা গুরুতর আহত হয়। টর্ণেডোর আঘাতে ৩ মহিলাসহ ৫জন নিহত হয়। এরা হলেন সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উরশিউড়া গ্রামের ডলি রানী দে-(৩০), পাতিরহাতা গ্রামের লাভলী বেগম-(৩০), বাসুদেব ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের সুমা আক্তার-(১০), জয়নাল মিয়া-(৩২)সহ অজ্ঞাতনামা ৫জন। সুমা আক্তার-(১০) ও জয়নাল মিয়া-(৩২) আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান। এছাড়া টর্নোডেতে ৫ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত টেম্পু, অটোরিকসা, মাইক্রোবাস দিয়ে হাসপাতালে রোগী আসছে। এছাড়াও সদর উপজেলার কয়েকশ রোগী আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। জেলা কারাগারের তত্বাবধায়ক গিয়াস উদ্দিন বলেন, টর্নেডোর সময় জেলা কারাগারের পশ্চিম পার্শ্বের দেয়াল ধ্বসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত এক কারারক্ষী নিখোঁজ রয়েছে। কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি। ঘটনার পর পরই গ্রামবাসী, আইন শৃংখলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস আহত নিহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমিল¬া-সিলেট মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনার পর পরই বিদ্যুৎ সংযোগ  বন্ধ রয়েছে ওই এলাকায়। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫জন নিহত হয়েছে।এ ব্যাপারে জেলা সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ আবু সাঈদ ৪জন নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রাত  সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী আসছে। রোগীর পরিমান সঠিক ভাবে বলা যাবে না।আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ শাহআলম বলেন, আখাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫জন মারা গেছেন। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন চাকমা টর্নেডোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। হিসেব না করে ক্ষয়ক্ষতি পরিমান বলা যাবে না।


  আপলোড তারিখ : 2013-03-22

Share on Facebook    
 
 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত