
এফএনএস (মিলন কর্মকার রাজু; কলাপাড়া, পটুয়াখালী) : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বালু সরে জেগে ওঠা দুইশত বছরের পুরনো সাম্পানটি স্থাপনের জায়গা নির্ধারনের জন্য কুয়াকাটায় এসেছেন সংষ্কৃতি ও প্রততত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার মিউজিয়াম স্থাপনের জন্য মতবিনিময় সভা শেষে বিকালে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করে প্রতিনিধি দলটি।
কুয়াকাটা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাকবাংলোয় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম,অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম, প্রততত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেগম শিরিন আখতার, প্রততত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বেগম আফরোজা খান মিতা, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ,কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, লতাচাপলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) সাহিদা বেগম, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক মনির আহম্মদ ভূইয়া, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার প্রমূখ।
সংস্কৃতিক মন্ত্রনালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম জানান, যেহেতু সামনে বর্ষা মৌসুম। এসময় সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পাবে তাই যত দ্রুত সম্ভব আগামী এক মাসের মধ্যে নৌকাটি মিউজিয়ামে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান,মিউজিয়াম স্থাপনের স্থান নির্বাচনের জন্য গঙ্গামতির ধোলাই মার্কেট সংলগ্ন এবং কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্নসহ একাধিক স্থান নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মিউজিয়ামস্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে কুয়াকাটা সৈকতের ঝাউ বাগান সংলগ্ন বালুচরে প্রাচীন এ সাম্পানটি জেগে ওঠে। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের বালুর স্তর নেমে যাওয়ায় সাম্পানটি জেগে ওঠার পর থেকে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ ভীড় করে সেটা দেখতে। ছইবিহীন বিশাল আকৃতির এই সাম্পানটির চারদিক পিতলের পাত লাগানো ছিল। কিন্তু সংরক্ষনের অভাবে পিতলের পাতের উপরের অংশ ইতিমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। কুয়াকাটা সৈকতে জেগে ওঠা প্রাচীন সাম্পানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ইভাস মারে। এ সংক্রান্ত একাধিক খবর বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশ হলে এ সাম্পানটি উত্তোলন করে মিউজিয়ামে স্থাপনের উদ্যেগ নেয়া হয়।