তাজা খবর : 
 
 
ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা
এফএনএস অর্থনীতি : গত আট মাসে বাজার থেকে ৩০৫ কোটি (৩.০৫ বিলিয়ন) ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও কমছে ডলারের দর। শক্তিশালী হচ্ছে টাকা। গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি।
এদিকে ভারত সরকারের প্রতিশ্রুত অনুদানের ৫ কোটি ডলার যোগ হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই রিজার্ভ এই অংক অতিক্রম করেনি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বর্ধিত ঋণ সুবিধার (ইসিএফ- এক্সট্রেন্ড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি) দ্বিতীয় কিস্তির ১৪১ মিলিয়ন ডলার পাওয়া গেলে চলতি মাসেই রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদূর রহমান। বুধবার ওয়াশিংটনে আইএমএফের বোর্ড সভায় এই ঋণ অনুমোদন পাওয়ার কথা বলে জানান তিনি। ছাইদূর রহমান বলেন, মূলত রেমিটেন্সের উপর ভর করেই রিজার্ভ এই সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং প্রকল্প সাহায্য বেশি আসায় এক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। তিনি জানান, বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পড়ে যাচ্ছে ডলারের দর। শক্তিশালী হচ্ছে টাকা। রেমিট্রে ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনার পরও ডলারের দর কমছে। বুধবার ৭৮ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক বছর আগে এই ডলারের দর ৮৫ টাকায় উঠেছিল। এরপর থেকে টাকার বিপরীতে ডলারের দর কমছেই। ছাইদূর রহমান জানান, টাকা-ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের আট মাসে (গত বছরের পহেলা জুলাই থেকে ২০ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত) ৩০৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ডলারের দর আর কমবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে। জানুয়ারি মাসে গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে আমদানি খাতে ব্যয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ। শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়ছে।আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির এ ধারা আগামীতে অব্যাহত থাকবে। ডলারের দর আর কমবে না। বাজার স্থিতিশীল থাকবে। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভ অতীতের সব রেকের্ড ভেঙে ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।৭ জানুয়ারি রিজার্ভ ১৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৫৯ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ১২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। বিদেশি মুদ্রা আসার প্রবাহ ভাল থাকায় ১৭ দিনের মাথায় আবার তা ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
গত বছরের মতো চলতি বছরের শুরুতেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্রে বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি মাসে ১৩২ কোটি ডলার রেমিট্রে দেশে এসেছে। একক মাস হিসাবে যা দ্বিতীয় সের্বাচ্চ রেমিট্রে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে ১৪৫ কোটি ডলার রেমিট্রে দেশে এসেছিল। চলতি ফেব্র“য়ারি মাসের ১৫ দিনে (১৫ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত) এসেছে ৬৫ কোটি ডলার।
২০১২ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। দেশের ইতিহাসে এক বছরে এই পরিমাণ রেমিট্রে আগে কখনো আসেনি।২০১০ সালের অগাস্টে একশ' কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে ভারত ও বাংলাদেশ। এই একশ' কোটি ডলার ঋণের মধ্যে অনুদান হিসেবে দেয়া হয় ২০ কোটি ডলার। অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, ভারতের অনুদানের এই অর্থ পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় করা হবে। অনুদানের প্রথম কিস্তির পাঁচ কোটি ডলার খুব কম সময়ের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। দুই মাস পর পর আকুর দেনা পরিশোধ করতে হয়।


  আপলোড তারিখ : 2013-03-28

Share on Facebook    
 
 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত