|
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরের জন্মদিন উদযাপন

এফএনএস (জীতেন বড়–য়া; খাগড়াছড়ি) : আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরের ৬১-তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ শুক্রবার দীঘিনালা বন বিহারে জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, বুদ্ধমূর্তি দান ও নন্দপাল মহাস্থবিরের ধর্মদেশনা শ্রবণ। অনুষ্ঠানে তিন পার্বত্য জেলার কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ফুল-ফল আর বিভিন্ন উপঢৌকন নিয়ে বন বিহারে হাজির হন। পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনের অধ্যক্ষ সুমনালংকার মহাথেরো'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জন্মবার্ষিকী সভায় সাবেক যুগ্ম-সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, বিশিষ্ঠ সমাজসেবক বিজয় কেতন চাকমা, এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন চাকমা, এবং বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্ব কল্যাণ চাকমা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গলে ধ্যান সাধনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে বুদ্ধের বাণী প্রচার ও প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। তিনি সদ্য পরলোকগত বনভান্তে খ্যাত শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির থেকে প্রথম শীষ্যত্ব গ্রহণ করেন। শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির হলেন বনভান্তের প্রথম শীষ্য। শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির রাঙামাটি জেলার বালুখালী ইউনিয়নের একটি গ্রামে ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ১৪ নভেম্বর শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) থেকে প্রবজ্যা গ্রহণ করেন। উপসম্পদা গ্রহণ করেন ১৯৭২ সালে। তিনি রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা বন বিহার ও রাঙামাটি রাজ বন বিহারে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। ১৯৮৩ সাল থেকে রাঙামাটি সদরের বন্দুকভাঙা ইউনিয়নে যমচুগ এলাকার গভীর জঙ্গলে ধ্যান সাধনা করেন। পরে ১৯৯৮ সালে সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমার অনুরোধে দীঘিনালা বন বিহারে আসেন এবং এ বিহারের অধ্যক্ষের পদ গ্রহণ করেন। তার ধর্মদেশনা, উপদেশ, বাণীতে উদ্ভুদ্ধ হয়ে মাইনী, কাচালং, চেঙ্গী উপত্যকায় বুদ্ধ ধর্মের প্রসার ঘটেছে। মানুষের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। এছাড়াও তিনি ভারতে বিহার রাজ্যে বুদ্ধগয়ায় বন বিহার প্রতিষ্ঠা, ত্রিপুরা-অরুণাচল-মিজোরাম রাজ্যে বুদ্ধ ধর্ম প্রচর করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন।
আপলোড তারিখ :
2013-05-10
|