|
মঠবাড়িয়ার আদালতে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা

এফএনএস (সজল আনোয়ার; মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর) : পাবনা জেলা জজ আদালতে কর্মরত সহকারী জজ সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মারুফা খাতুনের এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৭ মে মঠবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. জাকারীয়্যা অভিযোগটি আমলে নিয়ে ওই বিচারকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। জানা গেছে, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মো. আমীন গাজীর ছেলে সিরাজুল ইসলামের সাথে একই উপজেলার নাংলা গ্রামের মো. আদম আলীর মেয়ে মারুফা খাতুনের ২০০২ সালে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ দশ বছর সম্পর্কের ফলশ্রুতিতে ২০১১ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকার ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের বি লেক সার্কাস কলাবাগান এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. রুহুল আমীনের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যে তাঁদের মধ্যে রেজিস্ট্রিকৃত কাবিন নামা মূলে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর মারুফা তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের সাথে বিভিন্ন কর্মস্থলে বসবাস করেন। যৌতুকের দাবিতে মারুফাকে তার স্বামী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাড়িয়ে দিলে মারুফা সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর যৌতুক আইনের ৪ ধারায় স্বামী সিরাজুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং সিআর ১১৯/১২)। সিরাজুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তিনি ক্ষুব্দ হয়ে মারুফা ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার জন্য পায়তারা চালান। এক পর্যায়ে সিরাজুল তার ভগ্নিপতি খালেক গাজীকে দিয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ভূয়া এমদাদুল হক নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে মারুফার ও তার বাবা ও ভাইদের নামে অর্থ আতষাতের মামলা করেন (মামলা নং সিআর ৭৪৮/১২ মঠ) ধারা ৪০৬,৪২০,১১৪ পিসি। মারুফা আদালতে হাজির হয়ে জামিন শুনানিতে বাদীর নাম ঠিকানা নিয়ে আপত্তি তুললে আদালত বাদীর আইনজীবী শামিম আহমেদকে বাদীর সঠিক নাম ঠিকানা ও বাদীকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ওই আইনজীবী বাদীকে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়ে বাদীর মোবাইল নম্বর (০১৯১৭ ৫৩১৮৩০) আদালতে উপস্থাপন করেন। চার্য শুনানীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে আসামীদের মামলা থেকে অব্যহতি দেয়। এরপর ওই মামলটির আসামী মারুফা খাতুনের এক আবেদনের পেক্ষিতে আদালত সিম ব্যবহারকারীর সঠিক পরিচয় জানতে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। দেবহাটা থানা পুলিশ তদন্ত করে ওই সিম নম্বর ব্যবহারকারী সিরাজুলের ভগ্নিপতি খালেক গাজী বলে নিশ্চিত হন। দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মারুফা খাতুরে আবেদনের প্রেক্ষিতে খালেক গাজীসহ তার স্বামী সিরাজুল ও সিরাজুলের খালাতো ভাই মালেক গাজীকে আসামী করে সিআর ২৮২(ক)/১৩ মঠ মামলা রুজু হয়। (যার ধারা ৪১৯, ৪৭১,১৯৩,১০৯ পিসি)। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে খালেক গাজীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা এবং সিরাজুল ইসলাম ও মালেক গাজীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। সিরাজুল ইসলাম মারুফার সাথে তার বিয়ে অস্বীকার করেন।
আপলোড তারিখ :
2013-05-10
|