|
শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটন বাহিনীর পদভারে আবারো কাঁপছে সন্ত্রাস কবলিত যশোরাঞ্চল

এফএনএস (এস এম হাবিব; যশোর) : যশোর পুলিশের কথিত সোর্স ক্লিক শামিম চারদিন নিঁখোজ থাকার পর চৌগাছার বেড় গোবিন্দপুর বাওড় থেকে ২৩ মে বিকেলে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২০মে শামিম নিখোঁজ হলে ২২ মে তার ভাই থানায় একটি জিডি করেন। দুবৃত্তরা তাকে জবাই করে হত্যার পর লাশ ফেলে যায় বলে পুলিশের ধারণা। নিহত শামিম চৌধুরী ওরফে ক্লিক শামিম যশোরের বেজপাড়া মাহফুজ সড়কের বাসিন্দা শাহাজান আলীর ছেলে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙ্গে লিটন বাহিনীর ক্যাডার ও ক্লিক শামিমের শ্যালক মাল্টি সুমন ও স্ত্রী তৃঞ্চার সাথে অর্থ লেন-দেন ও অস্ত্রসহ বোমাবাজ টুকু'র গ্রেফতার, পেশাদার অপরাধী চক্রের মাদক এবং অস্ত্র ব্যবসার খবর পুলিশকে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ছাড়াও কয়েকজনকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাকে হত্যা করাছে হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। তার মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছ। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্ততি চলছিল। অভিযোগে জানাযায়, ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় শহরের মণিহার এলাকা থেকে ক্লিক শামিমকে অপহরণ করে হত্যার চেষ্টা চালায় দুবৃর্ত্তরা। এঘটনা উল্লেখ করে শামিম তার শ্যালক মাল্টি সুমন,সহিদ হোসেন জনি ও গফুর ডাকাতসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার কারণে স্ত্রী ও শ্যালকের পাশাপাশি বিরোধ সৃষ্টি হয় ফিঙ্গে বাহিনীর অনান্য ক্যাডারদের সাথেও। ওই মামলায় ক্লিক শামিমের অভিযোগ ছিল তার স্ত্রী নুরুন্নাহার তৃঞ্চাকে ৩৭ লাখ টাকা দেন ব্যাংকে রাখার জন্য কিন্তু সে টাকা ব্যাংকে না রেখে শ্যালক মাল্টি সুমন এর সাথে যোগ সাজসে সব টাকা আত্মসাৎ করে। এছাড়াও শ্যালক মাল্টি সুমন জমি কিনে দেবার কথা বলে আরো ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসকল টাকা ফেরত চাইলে স্ত্রী ও শ্যালকের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। যে কারণে তাকে অপহরণ করে হত্যার ভয় দেখিয়ে আরো ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। শামিম আরো উল্লেখ করেন স্ত্রী নুরুন্নাহার তৃঞ্চার সে তৃতীয় স্বামী। প্রথম স্বামীর নাম ইদ্রিস আলী এবং দ্বিতীয় স্বামীর নাম আনোয়ার সুবেদার। এদের দু'জনের বাড়ি বারান্দি মোল্লাপাড়া আমতলা এলাকায়। আগের দুই স্বামীর কাছ থেকেও হাতিয়ে নিয়েছ লাখ লাখ টাকা। অভিযোগে আরো জানাযায়, গত বছর শহরের মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা পঞ্জাব আলীর ছেলে বোমাবাজ টুক অস্ত্রসহ গ্রেফতার হলে সোর্স ক্লিক শামিমকে তারা সন্দেহ করে। এবিষয়ে কয়েক দফা শামিমকে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় এই বাহিনীর ক্যাডাররা। অবশেষে গত ১৭/১৮দিন আগে টুকুকে হাইকোর্ট থেকে জামিনে বের করা হয়। শুরু হয় বাহিনীর একমাত্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী যশোর পুলিশের কথিত সোর্স ক্লিক শামিম এর হত্যা মিশন। সর্বশেষ ২০মে সুকৌশলে শামিমকে অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙ্গে বাহিনীর দ্বিতীয় চেইন ইন কমান্ড পলাশের মাধ্যমে ডিম রিপন, ফুলু রশিদ, চাকমা বিপ্লব একত্রিত হয়ে তাদের বর্তমান আস্তানাতেই সপ্তাহব্যপী গভীর রাত জেগে চলে হত্যার পরিকল্পনা। আর এই হত্যা মিশনের সমস্ত খরচ বহন করেছে শ্যালক মাল্টি সুমন। যথারিতি হত্যা মিশনের দায়িত্ব দেয়া হয় পেশাদার অপরাধী টুকু ছাড়াও ক্যাডার জনি, চাকমা বিপ্লব, হাসান,গফুর ডাকাত, রনি,রশিদ, নেছার,ফয়সাল তরিকুলসহ আরো ১০/১২ জনের একটি দলের উপর। তবে পুলিশ হত্যাকারীদের কাউকে আটক করতে পারলে প্রকৃত ঘটনার পাশা পাশি বাহিনীর অস্ত ভান্ডারের সন্ধানসহ অনেক অজানা কাহিনী বের করতে পারবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাযয়িত্বশীলরা বলে এলাকাবাসির দাবি। কথিত সোর্স ক্লিক শামিম হত্যাকান্ডের পর মূল হত্যাকারীদের কেউ কেউ গা ঢাকা দিয়ে চললেও হত্যা পরিকল্পনাকারীরা আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকজনদের নজরদারীতে রেখে চলছে। এলাকাজুড়ে চলছে ধমধমে অবস্থা।
আপলোড তারিখ :
2013-05-24
|