তাজা খবর : 
 
 
সানন্দবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ
এফএনএস (মোঃ আতাউর রহমান; চররাজিবপুর, কুড়িগ্রাম) : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রভাষক ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ফতেহুল বারী জামালপুর জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান বকশীগঞ্জ উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও সরকারী দলের প্রভাব খাটিয়ে কলেজে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন।
গত ১১ মে জামালপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কলেজের ৪টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী ওই দিন বিকালে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ রহস্যজনক কারনে সেখান থেকে আত্মগোপন করেন। পরে তার মনোনিত প্রার্থীদের সাথে গোপন বাণিজ্যিক চুক্তি করে ৫দিন পর ফলাফল প্রকাশ করেন।
এছাড়াও চাকুরীবিধি পরিপন্থি ৫৮ বছর বয়স্ক প্রভাষক লুৎফর রহমানকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
কলেজের অপর এক প্রাথী (গ্রন্থাগারিক) পদে নাজরীন আক্তার কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে জানান, তিনি অধ্যক্ষের দাবি করা বড় অংকের টাকা দিতে না পারায় ওই পদে স্থগিতাদেশ জারি করেন। ওই কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, আমাদের বড় ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান টাকা নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করে আসলেও কোন বিচার বা জবাবদিহি কারো কাছে করা লাগে না। এটা যেন মগের মুল্লুকের মতো অবস্থা। তার এই এক ঘুয়েমির কারণে বার বার মেধাবীরাই পিছিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য ক্ষতি  সানন্দবাড়ি এলাকাবাসির অধ্যক্ষের নয়। কারণ উনি (অধ্যক্ষ) বাহিরের লোক এই প্রতিষ্ঠানে তার কোন ছেলে-মেয়ে বা আত্মীয়স্বজন লেখাপড়া করে না। কাজেই প্রতিষ্ঠানের উপর দরদ একটু কমই হয়ার কথা। 
কলেজের ব্যাবস্থাপনা কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, শুধু দুটি পদই নয় প্রত্যেকটি পদেই মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান। তার অপকমের্র কথা এখন সানন্দবাড়ির সচেতন মহলের মুখে মুখে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সানন্দবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ: মান্নান জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ ছাড় করা হয়েছে।


নম্বরপত্র নিতে ৫শ ও ভর্তি হতে ২৫শ টাকা!
এফএনএস (মোঃ আতাউর রহমান; চররাজিবপুর, কুড়িগ্রাম) :এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা তাদের নম্বরপত্র (মার্কশীট) ও প্রশংসাপত্র নিতে হয়রানির শিকার হচ্ছে। নম্বরপত্র ও প্রশংসাপত্র দিতে কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রতি ৫শ' থেকে এক হাজার টাকা করে অবৈধভাবে গ্রহণ করছে। ওই পরিমাণ টাকা না দিলে নম্বরপত্র ও প্রশংসাপত্র দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে উপজেলা শহরের কলেজগুলোতে ভর্তি ফি বাবদ ৫শ' টাকা করে নেয়ার সরকারি নিয়ম থাকলেও এখানে নেয়া হচ্ছে ২৫শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। রাজীবপুরের নয়াচর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেছে দিনমজুর ঘরের রবিউল আলম। তিনি বলেন, নম্বরপত্র ও প্রশংসাপত্র নিতে গেলে এক হাজার টাকা চায়। ওই টাকা না দেওয়ার কারণে তার নম্বরপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগ অনেক শিক্ষার্থীর। এক হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস ছাত্তার বলেন, তারা যদি আমার এই মাদ্রাসায়ই আলিমে ভর্তি হয় তাহলে ওই টাকা দেওয়া লাগবে না। নয়ারচর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রসার মতো রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই টাকার বিনিময়ে প্রশংসা ও নম্বরপত্র দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজীবপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে নম্বরপত্র নিতে ৫শ' টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ৫শ' টাকা না দিলে নম্বরপত্রও দেওয়া হচ্ছে না। এ বছর রাজীবপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করা শামীমা আক্তার বলেন, কেন্দ্র ফিসহ সকল ফি ফরম পূরণের সময় স্যাররা নিয়া নিছে। এখন নম্বরপত্র নিতে ৫শ' টাকা চায়। নম্বরপত্র বিতরণের সময় ৫শ' টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন বলেন, এ টাকা স্কুল ফান্ডে জমা থাকবে। নম্বরপত্র বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার চিত্র রৌমারী উপজেলার ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই পাওয়া গেছে। রৌমারী সিজি জামান হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা বলেন, আমরা অন্য স্কুলের মতো ৫শ' টাকা করে নেই না। আমরা মাত্র দুইশ' টাকা করে নিচ্ছি। কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নীতিমালা অনুয়ায়ী উপজেলা শহরের কলেজগুলোতে ভর্তি বাবদ ৫শ' টাকা করে নিতে পারবে। এর বেশি নেওয়া যাবে না। আর নম্বরপত্র নিতে কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। স্কুল থেকে যে প্রশংসাপত্র দেওয়া হয় তার জন্য সবর্ােচ্চ ২০ থেকে ৩০ টাকা করে নিতে পারে। কিন্তু এই নিয়ম মানছে না ওই দু'উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজীবপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। রৌমারী ডিগ্রি কলেজে ভর্তি ফি হিসেবে দুই হাজার টাকা করে গ্রহণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রাজীবপুর ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ ইউনুস আলী ও রৌমারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম জীবন জানান, ভর্তি ফির ওই টাকা কলেজের নানা কাজে ব্যয় করা হবে। রৌমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম ও রাজীবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, নম্বরপত্র ও ভর্তি ফি'র নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাদের জানা নেই।



  আপলোড তারিখ : 2013-06-17

Share on Facebook    
 
 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত